Custom Search

Sunday, October 10, 2010

পুঁজিবাজারে অঘটন হলে সরকারকেই দায় নিতে হবে

ঢাকা, ৯ অক্টোবর (শীর্ষ নিউজ ডটকম): পুঁজিবাজারে শেয়ারের চরম সঙ্কটের কারণে স্বাভাবিক সংশোধন না হওয়ায় তালিকাভুক্ত অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার অতি মূল্যায়িত হয়ে আছে। এ অবস্থায় পুঁজিবাজারের সামগ্রিক পিই রেশিও (মূল্য-আয় অনুপাত) বেড়ে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে অবিলম্বে
শেয়ারের সরবরাহ না বাড়ানোয় বিনিয়োগকারীরা আর্থিক ক্ষতির শিকার হলে এর দায়দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে। রাজধানীর পূর্বানী হোটেলে ঢাকা ও চিটাগাং স্টক এক্সচেঞ্জ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দুই স্টক এক্সচেঞ্জের প্রেসিডেন্ট সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রেসিডেন্ট শাকিল রিজভী বলেন, গত কিছুদিন যাবৎ পুঁজিবাজারে যৌক্তিক সংশোধন না হওয়ায় তালিকাভুক্ত অধিকাংশ শেয়ারের অতি মূল্যায়নের কারণে বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি অনেক বেড়েছে। পুঁজিবাজারের প্রতি মানুষের আস্থা ধরে রাখতে হলে শেয়ারের অতি মূল্যায়ন রোধ এবং বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি কমাতে দ্রুত শেয়ার সরবরাহ বাড়াতে হবে। তবে শেয়ার সরবরাহ বাড়াতে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হচ্ছে না।
বিনিয়োগকারীদের কোম্পানির মৌলভিত্তি বিবেচনায় এনে বিনিয়োগের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীকে নিজেকেই নিজের রেগুলেটর হতে হবে। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের ঝুঁকি কমাতে অতি মূল্যায়িত শেয়ারে বিনিয়োগ না করার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে কোন লোকসান হলে সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীকেই তা বহন করতে হবে। এক্ষেত্রে স্টক এক্সচেঞ্জ কোন দায় নেবে না।
এছাড়া পুঁজিবাজারে কোন বাজে কোম্পানি যাতে তালিকাভুক্ত হতে না পারে সে বিষয়ে বাজার নীতি নির্ধারকদের সজাগ থাকার আহবান জানিয়ে শাকিল রিজভী বলেন, অস্তিত্বহীন লোকসানি জেড ক্যাটাগরির বাজে কোম্পানি যা ইতিমধ্যেই তালিকাচ্যুত হয়েছে সেসব কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে কারা নিয়ে এসেছে তা তদন্ত করে খুঁজে বের করতে হবে। এছাড়া পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে বৈচিত্র আনতে বন্ড মার্কেট কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান। তিনি আরো বলেন, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (এসইসি) বিতর্কিত করে ক্যাপিটাল মার্কেট শক্তিশালী করা যায় না। তাই এসইসিকে শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় লোকবল দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান তিনি।
অনেকদিন ধরে সরকারি কোম্পানির শেয়ার পুঁজিবাজারে আসার কথা থাকলেও নানা জটিলতার কারণে এসব কোম্পানি তালিকাভুক্ত হচ্ছে না। অর্থমন্ত্রী নির্দেশ দেয়ার পরও সরকারি কোম্পানির শেয়ার না আসায় দুই স্টক এক্সচেঞ্জের প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। একইসাথে তারা বাণিজ্যমন্ত্রী ও শিল্পমন্ত্রীর সহযোগিতাও কামনা করেন। সংবাদ সম্মেলনে ডেসকো, যমুনা ওয়েলসহ তালিকাভুক্ত সরকারি কোম্পানির ৪৯ শতাংশ শেয়ার অফলোডের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে শেয়ারের বর্তমান সঙ্কট কাটানো সম্ভব বলে জানানো হয়। এ প্রক্রিয়ায় তালিকাভুক্ত সরকারি কোম্পানির শেয়ার স্বল্পতম সময়ে অফলোড করা সম্ভব। তারা বলেন, স্টক এক্সচেঞ্জ সব সময়ই সরকারকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে। তবে দ্রুততম সময়ে শেয়ারের সরবরাহ বাড়াতে সরকারি উদ্যোগ গ্রহণ করা না হলে এবং শেয়ার সঙ্কটের কারণে পুঁজিবাজারে খারাপ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে এর দায়-দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে। অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা সত্ত্বেও কার স্বার্থের কারণে সরকারি কোম্পানির শেয়ার বাজারে আসছে না সেটা খুঁজে দেখার দাবি জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।
সংবাদ সম্মেলনে চিটাগাং স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) প্রেসিডেন্ট ফখর উদ্দিন আলী আহমেদ বলেন, অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য বিনিয়োগ বোর্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন কোম্পানি গঠন করে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করার সুযোগ রয়েছে। আমাদের পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন দেশ এ ধরনের সুবিধা পুঁজিবাজার থেকে নিয়েছে।
পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের পরামর্শ দিয়ে সিএসইর প্রেসিডেন্ট বলেন, অতি মূল্যায়িত শেয়ারে বিনিয়োগ পরিহার করে ঝুঁকিমুক্ত থাকুন। এছাড়া বিনিয়োগকারীদের কোম্পানির মৌলভিত্তি বিবেচনায় বিনিয়োগের পাশাপাশি কোন একটি শেয়ারে সম্পূর্ণ অর্থ বিনিয়োগ না করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এছাড়া পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পরামর্শ দেওয়ার জন্য পেশাদার পরামর্শকদের বিষয়টি উন্মুক্ত করে দেয়ার জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতি আহবান জানিয়েছেন সিএসইর প্রেসিডেন্ট।
পুঁজিবাজারের বৃহত্তর  স্বার্থে  নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে কোনভাবেই চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে দেয়া যাবে না। একই সাথে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে ন্যূনতম ৪০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে তা পুনর্বিবেচনার আহবান জানান তিনি। প্লেসমেন্ট শেয়ারের নামে বিভিন্ন কোম্পানির মূলধন বৃদ্ধির যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে সে সম্পর্কেও সজাগ থাকার আহবান জানান সিএসইর প্রেসিডেন্ট। ইস্যু ম্যানেজারদের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে আরো কঠোর নজরদারি করতে হবে। এছাড়া ওটিসি মার্কেটের লেনদেন ব্যবস্থা আরো সহজ করার দাবি জানান তিনি।

0 comments:

Post a Comment

 
Copyright 2009 BANGLADESH SHARE BAZAR. Powered by Blogger Blogger Templates create by Deluxe Templates. WP by Masterplan