Custom Search

Tuesday, October 5, 2010

 কোটি টাকা লেনদেন করলেই বিনিয়োগকারীর তথ্য লাগবে

শেয়ারবাজারে কোনো বিনিয়োগকারী দিনে এক কোটি টাকা বা এর বেশি লেনদেন করলে সেই তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রতিদিনের লেনদেন শেষে সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউসকে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে গ্রাহকের লেনদেনসংক্রান্ত পাঁচটি তথ্য দিতে হবে।
পুঁজিবাজারের সাম্প্রতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সামাল দিতেই সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) গতকাল সোমবার এ আদেশ জারি করেছে, যা গতকাল থেকেই কার্যকর হয়েছে।
পরে বিকেলে বাজারের রাশ টেনে ধরতে এসইসির বাজার পর্যালোচনা কমিটির জরুরি বৈঠকে তদারকিব্যবস্থা আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরই অংশ হিসেবে আজ মঙ্গলবার থেকেই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও এসইসি যৌথভাবে বাজার তদারকিতে নামবে।
এ বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, বিভাগীয় শহরের বাইরে ব্রোকারেজ হাউসের আর কোনো শাখা খোলার অনুমোদন দেবে না এসইসি। শেয়ারের সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য না আসা পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বলবৎ থাকবে।
এ ছাড়া যেসব কোম্পানি পর পর দুই বছর বা তার বেশি সময় ‘জেড’ শ্রেণীতে রয়েছে, সেই সব কোম্পানিকে স্টক এক্সচেঞ্জের মূল লেনদেনব্যবস্থা থেকে তালিকাচ্যুত করা হবে। এসব কোম্পানিকে ১৫ দিনের সময় বেঁধে দিয়ে পাঠানো হবে ওভার দ্য কাউন্টার বা ওটিসি নামের বিকল্প বাজারে।
এসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আনোয়ারুল কবীর ভূঁইয়া টেলিফোনে প্রথম আলোকে এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় এসইসি এসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
পুঁজিবাজারে যেসব কোম্পানি নিয়মিত লভ্যাংশ দেয় না, সেই সব কোম্পানিকে শাস্তিস্বরূপ দুর্বল মৌলভিত্তির কোম্পানির কাতারে, অর্থাৎ ‘জেড’ শ্রেণীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আর যেসব কোম্পানি নিয়মিত বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) করে না, নিয়মনীতি পালনের তোয়াক্কা করে না এবং উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ, সেসব কোম্পানিকে পাঠানো হয় ওটিসি বাজারে।
কাগুজে শেয়ারকে ইলেকট্রনিক শেয়ারে (ডিম্যাট) রূপান্তর না করায় গত রোববার এসইসি ২৫টি কোম্পানিকে ওটিসি বাজারে পাঠায়। ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বরে ওটিসি বাজার চালু হওয়ার পর এ নিয়ে মোট ৭৫টি কোম্পানিকে ওটিসিতে পাঠানো হয়েছে। এবার নিয়মিত লভ্যাংশ না দেওয়ার শাস্তি হিসেবে নতুন করে আরও ১২টি কোম্পানিকে ওটিসিতে পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি। এ তালিকায় রূপালী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট ও ডেল্টা লাইফ ইনস্যুরেন্সের মতো কোম্পানি রয়েছে। তালিকার অন্য কোম্পানিগুলো হলো আজিজ পাইপ, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, চিটাগাং ভেজিটেবল, মেঘনা পেট, তাল্লু স্পিনিং, মুন্নু ফেব্রিকস, সাফকো স্পিনিং ও পদ্মা সিমেন্ট। সম্মিলিতভাবে এসব কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ এক হাজার ৫৮৭ কোটি টাকা।
বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, নিয়মিত লভ্যাংশ না দিলেও এ তালিকায় বেশ কয়েকটি সম্ভাবনাময় কোম্পানি রয়েছে। ফলে সব কোম্পানিকে এক কাতারে ফেলে ঢালাওভাবে তালিকাচ্যুত করলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতির মুখে পড়বেন। তা ছাড়া বাজারে তীব্র শেয়ার সংকটের সময় একসঙ্গে এতগুলো কোম্পানিকে মূল লেনদেনব্যবস্থা থেকে সরিয়ে দেওয়া কতটুকু যৌক্তিক, সেটাও ভেবে দেখা দরকার।
যোগাযোগ করা হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ও ডিএসইর সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন আহমেদ খান একই ধরনের মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বিভাগীয় শহরের বাইরে ব্রোকারেজ হাউসের শাখা খোলার অনুমোদন না দেওয়ার সিদ্ধান্তটি বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রয়োজন ছিল। কিন্তু ঢালাওভাবে সব কোম্পানিকে ওটিসিতে পাঠানো হলে বাজারে শেয়ারের সংকট আরও বাড়বে।
এক কোটি টাকার বেশি লেনদেন করলে তথ্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে সালাহউদ্দিন আহমেদ খান বলেন, মানি লন্ডারিং নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক সার্কুলারের সঙ্গে এ সিদ্ধান্তের সম্পর্ক রয়েছে কি না, সেটা দেখা দরকার। তবে যা-ই হোক, এ ধরনের সিদ্ধান্ত বাজারের জন্য শুভ ফল আনবে না। লেনদেন চলাকালে এ ধরনের নির্দেশ দেওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
একজন বিনিয়োগকারী প্রথম আলোকে বলেন, এসইসির নতুন এ নির্দেশনার কারণে বিনিয়োগকারীরা লেনদেন কমিয়ে দেবেন। এতে বাজারে শেয়ারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হবে, যা শেয়ারের দাম বাড়াতে আরও বেশি ভূমিকা রাখবে। তিনি মনে করেন, শেয়ারের সরবরাহ না বাড়িয়ে, এভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা খুব একটা কাজে আসবে না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক কোটি টাকার বেশি লেনদেন করেছে এমন গ্রাহক সম্পর্কে বেশির ভাগ ব্রোকারেজ হাউসই গতকাল তথ্য দিতে পারেনি। এ ব্যাপারে একটি ব্রোকারেজ হাউসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, এসইসি গ্রাহকের ক্রয়-বিক্রয় আদেশ; বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাবে কী শেয়ার ছিল, তার তথ্য; গত এক সপ্তাহের আর্থিক খতিয়ান; পোর্টফোলিও বা পত্রকোষের বিবরণীসহ গ্রাহকের এক সপ্তাহের লেনদেনের সংক্ষিপ্তসার দিতে বলেছে। কিন্তু লেনদেনের পর প্রতিটি গ্রাহকের এসব তথ্য পৃথকভাবে সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট সময়ে এসইসিতে জমা দেওয়া অত্যন্ত কঠিন।
গতকাল প্রথম দিন বিকেল পাঁচটার পরপরই তথ্য দিতে গিয়ে এসইসিতে জমা নেওয়ার মতো কোনো কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে অনেক প্রতিষ্ঠান।
বাজার পরিস্থিতি: আগের দিনের রেকর্ড লেনদেনের ধারাবাহিকতায় গতকাল দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেন শুরু হয়েছিল। ডিএসইতে প্রথম ঘণ্টায় মূল্যসূচক ৮০ পয়েন্টের বেশি বেড়ে যায়। এরপর এসইসির নির্দেশনা ডিএসইর ওয়েবসাইটে আসার সঙ্গে সঙ্গে সূচক কমতে থাকে। কিন্তু দুপুর দুইটার পর বাজারে যখন খবর ছড়িয়ে পড়ে, প্রকৃত সম্পদ মূল্যের (এনএভি) ভিত্তিতে ঋণ বিতরণের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ বহাল রয়েছে, তখন বাজারে লেনদেন ও সূচক দুই-ই বাড়তে শুরু করে। শেষ পর্যন্ত ডিএসইর সাধারণ সূচক আগের দিনের চেয়ে ৩৯ পয়েন্ট বেড়ে সাত হাজার ২৬১ পয়েন্ট অতিক্রম করে। আর লেনদেন হয় দুই হাজার ৪৩৬ কোটি টাকার বেশি।
উল্লেখ্য, এনএভির ভিত্তিতে শেয়ারের বিপরীতে ঋণ বিতরণসংক্রান্ত দুটি আদেশের কার্যকারিতা তিন মাসের জন্য স্থগিত করে দেওয়া হাইকোর্টের নির্দেশনা খারিজের জন্য চেম্বার জজ আদালতে আবেদন করে এসইসি। এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল শুনানি হয়েছে। কিন্তু চেম্বার জজ আদালত হাইকোর্টের নির্দেশ বহাল রেখে ৭ অক্টোবর শুনানির জন্য বিষয়টি পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠান।

0 comments:

Post a Comment

 
Copyright 2009 BANGLADESH SHARE BAZAR. Powered by Blogger Blogger Templates create by Deluxe Templates. WP by Masterplan