Custom Search

Tuesday, October 5, 2010

শেয়ারবাজারে মিউচুয়াল ফান্ড সংক্রান্ত রায়ের প্রভাব : এইমসের লেনদেনে অচলাবস্থা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার,আমার দেশ
শেয়ারবাজারে মিউচুয়াল ফান্ডের রায়ে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে গতকাল উচ্চ আদালত এইমস ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের রাইট ও বোনাস ইস্যুর আবেদন নাকচ করে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন। একই সঙ্গে রায়ের আলোকে এইমসের আবেদনের ১০ দিনের মধ্যে রাইট ও বোনাস ইস্যুর অনুমোদনে আদলত কমিশনকে নির্দেশ দেয়। আদালতের রায়ের বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গেই শেয়ারবাজারে ছড়িয়ে পড়ে। আর এ কারণে মিউচুয়াল ফান্ড খাতের শেয়ারে গতকাল বড় ধরনের দরবৃদ্ধি ঘটে। এ খাতের ২৭টি ফান্ডের মধ্যে ২৫টিরই দাম বেড়েছে।
গতকাল লেনদেনের শুরু থেকেই বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি ছিল আদালতের দিকে। বাজার শুরু হওয়ার ১ম ঘণ্টায় ডিএসইতে লেনদেন হয় ৩৪২ কোটি টাকা। পাশাপাশি সাধারণ সূচক বেড়ে যায় ৪২ পয়েন্ট। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজার কিছুটা নিম্নমুখী হয়। এসইসির পরিদর্শক দল বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউস পরিদর্শনে গেলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছু উত্কণ্ঠার সৃষ্টি হয়। কিন্তু মিউচুয়াল ফান্ড সংক্রান্ত রায় ঘোষণার পরই পাল্টে যায় বাজারের চিত্র। দিনের শুরুতে এ খাতের অধিকাংশ ইউনিটের দরপতন হলেও রায় ঘোষণার পরপরই তা পাল্টে যায়। বিশেষ করে এইমস ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বড় ধরনের হুজুগ তৈরি হয় এবং বিক্রেতার অভাবে এ ফান্ডটির ইউনিট লেনদেনে অচলাবস্থা দেখা দেয়। এ ফান্ডটির ইউনিট ক্রয়ে মরিয়া হয়ে ওঠেন বিনিয়োগকারীরা। একের পর এক দর বাড়িয়েও বিক্রেতা খুঁজে পাওয়া যায়নি। দিনশেষে ফান্ডটির ইউনিটের দর আগের দিনের তুলনায় ৩ টাকা ১০ পয়সা বৃদ্ধি পায়, যা শতকার হিসাবে ২০ ভাগ বেশি। দরবৃদ্ধির ফলে গতকাল ডিএসইর শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধি কোম্পানির শীর্ষস্থানটি দখল করে নেয় এ ফান্ডটি। শুধু তাই নয়, গতকাল শীর্ষ ১০ কোম্পানির তালিকার ৫টিই ছিল মিউচুয়াল ফান্ড খাতের।
এদিকে মার্জিন লোন ও নেটিং সুবিধা বন্ধে এসইসির নির্দেশ আদালতে স্থগিত হয়ে যাওয়ায় শেয়ারবাজারে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। এ নিয়ে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে টানা ৯ দিন সূচকের উল্লমম্ফন হলো। বাজার নিয়ন্ত্রণে একের পর এক পদক্ষেপ নিলেও বাজারে এর কোনো প্রভাব নেই। কোটি টাকার বেশি শেয়ার লেনদেনকারীর তথ্য কমিশনে পাঠাতে হবে—আগের দিন কমিশনের পক্ষ থেকে ব্রোকারেজ ও স্টক ডিলারদের প্রতি বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়। অতিমূল্যায়িত বাজারের লাগাম টেনে ধরতেই কমিশনের পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও তাতে বাজারে প্রভাব পড়েনি। আগের দিনের তুলনায় গতকাল বাজারের সূচক বেড়েছে প্রায় ৬৫ পয়েন্ট। দিনশেষে ডিএসইর সাধারণ সূচক গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৩২৭ পয়েন্টে, যা ডিএসইর সাধারণ সূচকের সর্বোচ্চ অবস্থান। অবশ্য আগের দিন টানা দু’বছর ‘জেড’ ক্যাটাগরিভুক্ত কোম্পানিগুলোকে ওটিসি মার্কেটে পাঠানো হবে—এসইসির বাজার পর্যালোচনা কমিটির বৈঠকে এমন সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে এই ক্যাটাগরির কোম্পানিগুলোর শেয়ারের বড় ধরনের দরপতন হয়। ‘জেড’ ক্যাটাগরির ১৬টি কোম্পানির মধ্যে ১৪টি কোম্পানিই দর হারায়। যদিও গতকালই এ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে মাত্র ৪টি কোম্পানিকে ওটিসি মার্কেটে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে এসইসি। কিন্তু এসইসির এ সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অবশ্য দুর্বল মৌলভিত্তির কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দর কমলেও বেড়েছে মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম। বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ব্যাংক, বীমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দর ব্যাপক হারে বেড়েছে। শেয়ার বাজারে এ খাতগুলোর শেয়ার দিনভর ছিল আলোচনায়। ব্যাংকিং খাতের ৩০টি কোম্পানির মধ্যে ২৮টির দর বেড়েছে, কমেছে মাত্র ২টি কোম্পানির শেয়ার দর। বীমা খাতের ৪৪টি কোম্পানির মধ্যে ৩৯টি কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে, কমেছে মাত্র ৫টি কোম্পানির শেয়ার দর। গতকাল ডিএসইতে মোট ২৪৩টি কোম্পানির ১৪ কোটি ৫২ লাখ ৭৩ হাজার ৬০৮টি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। ডিএসইতে মোট লেনদেনের পরিমাণ ২ হাজার ১৯৭ কোটি ২৮ লাখ ৭২ হাজার ১৬০ টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে ২৩৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা কম। তবে ডিএসইর বাজার মূলধন বেড়ে ৩ লাখ ১৯ হাজার ৬শ’ কোটি ৭ লাখ ৪২ হাজার ৯৮৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে। কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ১৩৫টির, কমেছে ১০৭টির।
লেনদেনের ভিত্তিতে প্রধান ১০টি কোম্পানি হলো—পিপলস্ লিজিং ফাইন্যান্স অ্যান্ড সার্ভিসেস লি., প্রিমিয়ার ব্যাংক, যমুনা অয়েল, বিএসআরএম স্টীল, স্কয়ার ফার্মা, প্রাইম ফাইন্যান্স, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোং লি., এক্সিম ব্যাংক, গোল্ডেনসন ও মেঘনা লাইফ। অন্যদিকে দর বৃদ্ধিতে প্রধান ১০টি কোম্পানি হলো—এইমস ১ম মিউচুয়াল ফান্ড, কন্টিনেন্টাল ইন্সুরেন্স, ১ম বিএসআরএস, রিলায়েন্স ইন্সুরেন্স, ডেল্টা-ব্র্যাক হাউজিং ১ম মিউচুয়াল ফান্ড, আইসিবি ৩য় এনআরবি, রিপাবলিক ইন্সুরেন্স, ট্রাস্ট ব্যাংক ১ম মিউচুয়াল ফান্ড, প্রিমিয়ার ইন্সুরেন্স ও পাইওনিয়ার ইন্সুরেন্স। দাম কমার শীর্ষে প্রধান ১০টি কোম্পানি হলো—মুন্নু ফেব্রিকস্, মেঘনা পেট্রোলিয়াম, এপেক্স উইভিং, তাল্লু স্পিনিং, আজিজ পাইপস, সাফকো স্পিনিং, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, সাভার রিফ্যাক্টরীজ ও লাফার্জ সুরমা।

0 comments:

Post a Comment

 
Copyright 2009 BANGLADESH SHARE BAZAR. Powered by Blogger Blogger Templates create by Deluxe Templates. WP by Masterplan