Custom Search

Monday, February 22, 2010

শেয়ারবাজারে নীরবে মূল্য সংশোধন

তথ্যসূত্রঃ সমকাল

শেয়ারবাজারে চলছে নীরব মূল্য সংশোধন। প্রতিদিনই কমছে লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম। মূল্য হারানো শেয়ারের সংখ্যা মূল্য বৃদ্ধি সংখ্যাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। চলতি মাসের শুরু থেকেই চলছে এই ধারা। চলতি মাসের গত ১৫টি কর্মদিবসের মধ্যে ১২ দিনই লেনদেনে অংশ নেওয়া সিংহভাগ কোম্পানির শেয়ারের মূল্য কমেছে। এ সময় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গড়ে দৈনিক ২৪৪টি কোম্পানির শেয়ার কেনা-বেচা হয়েছে, যার মধ্যে গড়ে মাত্র ৯৯ কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। কমেছে ১৪৩ কোম্পানির শেয়ারের দাম। কিন্তু বিশাল মূলধনের কোম্পানি গ্রামীণফোনের শেয়ারের টানা মূল্য বৃদ্ধির কারণে মূল্য সূচকে এই বাজার প্রবণতা প্রতিফলিত হয়নি। চলতি মাসে ডিএসইতে সাধারণ সূচক বেড়েছে ৩৯৩ পয়েন্ট। সূচক নিয়ন্ত্রণে রাখার তোড়জোড়ের মধ্যে আড়ালে যেন চাপা পড়ছে বিশেষ করে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের হাহাকার।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বাজার প্রবণতার পেছনে রয়েছে বেশ কয়েকটি বিষয়ের সম্মিলিত প্রভাব। গত মাসের শেষ ভাগ পর্যন্ত চলমান ঊর্ধ্বগতির কারণে অনেক বিনিয়োগকারী মুনাফায় ছিলেন। তারা শেয়ার বিক্রি করে মুনাফা তুলে নিতে শুরু করায় বাজারে বিক্রির চাপ বেড়ে যায়। কয়েকটি ব্যাংকের প্রস্তাবিত লভ্যাংশ বিনিয়োগকারীদের মনঃপূত না হওয়ায় সার্বিক ব্যাংকিং খাতের শেয়ারে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। অন্যদিকে গ্রামীণফোনের শেয়ারের টানা মূল্য বৃদ্ধিতে বিনিয়োগকারীদের একটা বড় অংশই ওই শেয়ারে বিনিয়োগে অধিক পরিমাণে প্রলুব্ধ হচ্ছে। তারা গ্রামীণফোনের শেয়ার কেনার জন্য অন্য শেয়ার বিক্রি করে তহবিল সংগ্রহ করায় সেগুলোর দাম দ্রুত কমে যাচ্ছে। বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মূল্য সংশোধনের বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। এটি বাজারের সহজাত প্রবণতা। মূল্য সংশোধনের মাধ্যমে নতুন করে মূল্য বৃদ্ধির শক্তি সঞ্চয় করে বাজার। তবে গ্রামীণফোনের শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের ঝোঁক বেড়ে যাওয়ার প্রবণতাকে উদ্বেগজনক মনে করছেন তারা। কারণ মাত্র কয়েকটি শেয়ারে সব মনোযোগ কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়লে বাজারে ভারসাম্যহীনতার শঙ্কা বেড়ে যেতে থাকে। তাছাড়া কোনো শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধি যত বেশি হয়, তার মূল্য সংশোধনও তত তীব্র হয়। তাই এই ধারা বজায় থাকলে বিপুল সংখ্যক বিনিয়োগকারী আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
গত মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত সার্বিক বাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও শেষ ভাগে এসে বাজার ধীরে ধীরে সংশোধনের দিকে এগোতে থাকে। আর চলতি মাসের গোড়ার দিকে এসে তা তীব্র হতে থাকে। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চলতি মাসে লেনদেন দিবস ছিল ১৫টি। এর মধ্যে মাত্র তিন দিন লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। অবশিষ্ট সব দিনেই এই চিত্র ছিল উল্টো। ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গড়ে দৈনিক ২৪৪টি কোম্পানির শেয়ার কেনা-বেচা হয়। এদের মধ্যে গড়ে ৬১ শতাংশ শেয়ারেরই দাম কমেছে। বেড়েছে মাত্র ৩৯ শতাংশ শেয়ারের দাম। প্রায় একই চিত্র ছিল চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই)।
বাজার বিশ্লেষকরা আশা করছেন, ইতিমধ্যে কিছু খাতে যথেষ্ট মূল্য সংশোধন হওয়ায় শিগগিরই হয়তো গত দুই সপ্তাহের প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসবে বাজার। গ্রামীণফোনের শেয়ারে অতিমাত্রায় যে ঝোঁক ছিল বিনিয়োগকারীদের তা যদি কিছুটা কমে আসে তাহলেও বাজারে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

0 comments:

Post a Comment

 
Copyright 2009 BANGLADESH SHARE BAZAR. Powered by Blogger Blogger Templates create by Deluxe Templates. WP by Masterplan