Source: আমার দেশ
শেয়ারবাজারে একের পর এক লেনদেন বৃদ্ধির পর এবার পতনেও রেকর্ড হলো! গতকাল সপ্তাহের শেষদিনে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে একদিনেই লেনদেন কমেছে ৪৯৩ কোটি টাকা। শেয়ারবাজারের ইতিহাসে মাত্র একদিনের ব্যবধানে এ ধরনের লেনদেন পতনের ঘটনা ঘটেনি। এ বছরের শুরু থেকেই অনেকটা পাল্লা দিয়ে বাড়ছিল শেয়ারবাজারের লেনদেন। প্রতি সপ্তাহে লেনদেনে নতুন নতুন রেকর্ড গড়া আর ভাঙার ঘটনা ঘটে। বছরের শুরুর দিন লেনদেন দাঁড়ায় ১ হাজার ৯৪ টাকা। ধারাবাহিকভাবে তা বাড়তে বাড়তে গতকালের আগের দিন পর্যন্ত তা হয়েছিল ১ হাজার ৬৩৭ কোটি টাকায়। কিন্তু গতকাল এ সপ্তাহের শেষ লেনদেন দিবসে বড় ধরনের পতনের ঘটনা ঘটল। লেনদেন কমে গিয়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৪৪ কোটি টাকায়। অর্থাত্ মাত্র একদিনের ব্যবধানেই ডিএসইতে লেনদেন পতনে নতুন রেকর্ড হলো। আর গতকালের এ লেনদেন দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে গত ২০ জানুয়ারি সর্বনিম্ন ১ হাজার ১০৮ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল ডিএসইতে। লেনদেনের বড় ধরনের পতন হলেও বেড়েছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম এবং সাধারণ সূচক বেড়েছে ৩৪ পয়েন্ট।
সম্প্রতি লেনদেন বেড়ে যাওয়ায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাজারের রাশ টেনে ধরতে মার্জিন লোনের ক্ষেত্রে সীমা নির্ধারণ করে দেয়। মোট তিন দফায় মার্চেন্ট ব্যাংক এবং ব্রোকারেজ হাউসগুলোর ঋণ সুবিধা দেয়ার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করে। প্রথম দফায় ঋণ সুবিধা দেয়ার ক্ষেত্রে আয়-মূল্য অনুপাত (পি-ই) ৭৫ নির্ধারণ করে দেয়। পরে তা কমিয়ে আনা হয় ৫০-এ। একইসঙ্গে গ্রাহকদের ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে ব্রোকারেজ হাউসগুলোর সর্বোচ্চ সীমা বেঁধে দেয়া হয় ১ঃ২ মাত্রায়। কিন্তু তাতেও বাজারে তারল্য প্রবাহে লাগাম টেনে ধরা যায়নি। অবশেষে মার্চেন্ট ব্যাংক এবং ব্রোকারেজ হাউসগুলোর ক্ষেত্রে ঋণ দেয়ার সুবিধা ১ঃ১ মাত্রায় কমানো হয়। অবশ্য ঋণ সুবিধা সংক্রান্ত এ নির্দেশনা আগামী রোববার থেকে কার্যকর হবে। এসইসির একের পর এক হস্তক্ষেপে গতকাল বাজারে লেনদেনে বড় ধরনের পতন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তবে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যাতে অহেতুক আতঙ্ক বা ভীতি সঞ্চার না হয় সেদিকেও সতর্ক দৃষ্টি দেয়ার আহ্বান জানান তারা।
এদিকে ট্রেডারদের কারণেই শেয়ারবাজারে লেনদেন বাড়ছে বলে মনে করেন এসইসির নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারুল কবির ভূঁইয়া। তিনি বলেন, এরা একটি শেয়ার বিক্রি করে আরেকটি শেয়ার কিনছে। বারবার কেনা-বেচার কারণে শেয়ারের দাম বেড়েই চলছে। অথচ একটি কোম্পানির শেয়ারের দর বৃদ্ধির সঙ্গে কোম্পানির নিট সম্পদ মূল্যের একটি সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু এখানে যেভাবে কোম্পানির শেয়ারের মূল্য বাড়ছে তাতে মনে হয়, প্রতিদিনই কোম্পানির সম্পদ বাড়ছে। এ ধরনের প্রবণতা বাজারের জন্য ইতিবাচক নয় বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, না বুঝে শেয়ারবাজারে আসা উচিত নয়। তিনি বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, আপনার টাকা আপনি বিনিয়োগ করবেন। পরে আর্থিক ক্ষতির শিকার হলে এসইসির বিরুদ্ধে মিছিল, সেম্লাগান করবেন—এটা হতে পারে না। পৃথিবীর কোনো দেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কোনো বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার টাকা ফিরিয়ে দেয় না।
সম্প্রতি ডিএসই প্রেসিডেন্ট রকিবুর রহমান ২০১১-এর ডিসেম্বর নাগাদ শেয়ারবাজারে দৈনিক লেনদেন ৩ হাজার কোটি টাকা হবে—এমন বক্তব্যের বিষয়ে তার মতামত জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ধরনের মন্তব্যের কারণে যদি পুঁজিবাজারে কোনো সমস্যা তৈরি হয় তার দায়দায়িত্ব তাহলে তাকেই নিতে হবে।
এদিকে গতকাল ডিএসইতে মোট ২৪৩টি কোম্পানির লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ১৬১টির, কমেছে ৭৮টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৪টি কোম্পানির শেয়ারের দাম।
দর বৃদ্ধিতে শীর্ষ ১০টি কোম্পানি ছিল—ফু-ওয়াং ফুড, ইউনাইটেড লিজিং, গ্রামীণ-১, প্রাইম ফার্স্ট আইসিএবি, জিকিউ বল পেন, জেমিনি সি ফুড, আইসিবি এএমসিএল ১ম মিউচুয়াল ফান্ড, বিডি থাই, আইসিবি এমপ্লয়িজ মিউচুয়াল ফান্ড ও ফার্স্ট লিজ ইন্টারন্যাশনাল। অন্যদিকে দাম কমার শীর্ষ ১০টি কোম্পানি ছিল সোনালী আঁশ, সিএমসি কামাল, এইচআর টেক্স, দেশ গার্মেন্টস, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, সিটি ব্যাংক, পূরবী জেনারেল ইন্সুরেন্স, ঢাকা ফিশারিজ, জুট স্পিনার্স ও লিব্রা ইনফিউশন। লেনদেনের ভিত্তিতে শীর্ষ ১০টি কোম্পানি ছিল—গ্রামীণফোন, বেক্সিমকো, এবি ব্যাংক, বেক্সটেক্স, সাউথইস্ট ব্যাংক, লঙ্কাবাংলা ফিন্যান্স, প্রাইম ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক ও এনসিসি ব্যাংক।

0 comments:
Post a Comment