তথ্যসূত্র : আমার দেশ
সূচকের ব্যাপক ওঠানামার মধ্য দিয়ে গতকাল শেষ হয়েছে এ সপ্তাহের শেয়ারবাজারের লেনদেন। এক ঘণ্টার ব্যবধানেই কয়েকবার সূচকের ওঠানামার ঘটনা ঘটে। গ্রামীণফোনের শেয়ারের কারণে বাজারে সূচকের এ ধরনের উত্থান-পতন হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। অবশ্য দিনশেষে গ্রামীণফোনের শেয়ারের দরপতন হলেও বেশিরভাগ ব্যাংকের শেয়ারের দরবৃদ্ধির কারণে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাধারণ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৩৫ পয়েন্ট বেড়েছে। এর ফলে ডিএসই সূচক দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৬৩৫ পয়েন্টে। গতকাল সূচক বাড়লেও লেনদেন কম হয়েছে ৩ কোটি টাকা।
সূচকের ব্যাপক ওঠানামার বিষয়ে বাজার বিশ্লেষক এবং বেসরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান এইমস ফার্স্ট বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইয়াওয়ার সাঈদ বলেন, গ্রামীণফোনের শেয়ারের মূল্য ওঠানামার কারণে সূচকের ওঠানামার ঘটছে। এ কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বাড়লেই সূচক বাড়ছে, কমলে সূচকও কমছে। একটি কোম্পানির শেয়ারের সঙ্গে সূচকের ওঠানামার কারণে বাজারে প্রভাব পড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গ্রামীণফোনের মতো আরও বড় কোম্পানি বাজারে এলে এ পরিস্থিতির অবসান হবে। তবে দিনশেষে গ্রামীণফোনের শেয়ারের দাম কমলেও সূচক বৃদ্ধির কারণ হিসেবে বলেন, ব্যাংকগুলোর শেয়ারের দরবৃদ্ধির কারণেই সূচক বেড়েছে। গতকাল অধিকাংশ ব্যাংকের শেয়ারেরই দাম বেড়েছে।
গ্রামীণফোন শেয়ারবাজারের এখন সবচেয়ে প্রভাববিস্তারকারী কোম্পানি। এ কোম্পানির শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধির কারণে এসইসি এ কোম্পানির শেয়ার ক্রয়ে আর্থিক সমন্বয় সুবিধা বন্ধ করে দিয়েছে। গত দু’দিন আগে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। এর ফলে গত দু’দিনে কোম্পানিটির শেয়ারে কিছুটা দরপতন হয়েছে। আগের দিনের তুলনায় গতকাল দরপতন হয়েছে ১ টাকা ৫০ পয়সা। ৩১২ টাকা দিয়ে দিনের লেনদেন শুরু হলে এক পর্যায়ে তা ৩শ’ টাকায় নেমে আসে। কোম্পানির শেয়ারের দরপতনের ফলে সূচকও হারায় বাজার। পরে আবার কোম্পানিটি ঘুরে দাঁড়ায়। দিনশেষে ৩১২ টাকা ৫০ পয়সায় স্থিত হয় শেয়ারের দাম, যা আগের দিন ছিল ৩১৪ টাকা।
এদিকে গতকাল গ্রামীণফোন দর হারালেও বেড়েছে ব্যাংকিং খাতের প্রায় সব ক’টি কোম্পানির। আর দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশের ৪টিই ছিল এ খাতের কোম্পানি। অবশ্য ১৭ শতাংশ দরবৃদ্ধির ফলে শীর্ষে ছিল চিটাগং ভেজিটেবল। এর পরেই ছিল ট্রাস্ট ব্যাংক। এ কোম্পানির শেয়ারের দর বেড়েছে ৮ শতাংশেরও বেশি। গতকাল ডিএসইতে লেনদেনকৃত ২৪৩টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ১০২টির, কমেছে ১৩৫টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৬টি কোম্পানির। লেনদেনের ভিত্তিতে শীর্ষ ১০টি কোম্পানি ছিল বেক্সিমকো, এবি ব্যাংক, গ্রামীণফোন, লঙ্কাবাংলা ফিন্যান্স, ন্যাশনাল ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, বেক্সটেক্স, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক ও শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক।
দর বৃদ্ধিতে শীর্ষ ১০টি কোম্পানি ছিল ট্রাস্ট ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, ইসলামিক ফিন্যান্স, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, আফতাব অটো, ঢাকা ব্যাংক, ম্যাকসন স্পিনিং, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক ও মডার্ন ডায়িং। অন্যদিকে দাম কমার শীর্ষ ১০টি কোম্পানি ছিল রেকিট বেঙ্কাইজার, ইমাম বাটন, জিকিউ বল পেন, রহিম টেক্সটাইল, বিআইএফসি, গ্রিন ডেল্টা, আনোয়ার গেলভানাইজিং, বিডি ওয়েল্ডিং, আরএন স্পিনিং ও মিথুন নিটিং।

0 comments:
Post a Comment