চলতি বছরের মধ্যেই
দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) অনলাইন লেনদেন চালু হবে। অনলাইন লেনদেনের
প্রাথমিক অবকাঠামোর কাজ শেষ পযায়ে। ভারতভিত্তিক যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের যৌথ
বিনিয়োগের আইটি কোম্পানি কেমব্রিজ সলিউশন
লিমিটেড বর্তমানে প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার নির্মাণ করছে। অনলাইন চালু হলে শেয়ার লেনদেন অনেক সহজ ও
সাশ্রয়ী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দেশের বাইরে থেকেও
তখন লেনদেনে অংশ নেওয়া যাবে। এতে লেনদেনের পরিমাণ
বাড়বে।
বিপুল
পরিমাণ বিদেশি বিনিয়োগ আসবে শেয়ারবাজারে।
বর্তমানে ব্রোকারেজ হাউসের মাধ্যমে লেনদেন
অনুষ্ঠিত হয়। সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারী
ব্রোকারেজ হাউসে উপস্থিত থেকে অথবা টেলিফোনের মাধ্যমে শেয়ার কেনাবেচার অর্ডার দিয়ে থাকেন। ব্রোকারেজ হাউসের
অনুমোদিত প্রতিনিধি তা কার্যকর করে থাকেন। কোনো কোনো ব্রোকারেজ
হাউসে ই-মেইল এবং মোবাইল ফোনের সংক্ষিপ্ত বার্তার
(এসএমএস) মাধ্যমে অর্ডার দেওয়ার সুযোগ আছে। অনলাইন
লেনদেনের
ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীই সরাসরি শেয়ার কেনা-বেচা করতে পারবেন। তবে তখনও পরোক্ষভাবে এটি ব্রোকারেজ হাউসের
মাধ্যমেই কার্যকর হবে। অনলাইন বিনিয়োগে আগ্রহী
গ্রাহককে সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউসের ফরম পূরণ ও অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে একটি কোড নম্বর সংগ্রহ
করতে হবে।
ওই কোড
নম্বরের মাধ্যমে তিনি
ব্রোকারেজ হাউসের হয়ে ট্রেডিং নেটওয়ার্কে সংযুক্তে নিজের লেনদেনটি সম্পন্ন করতে পারবেন।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) ইতোমধ্যে
অনলাইন লেনদেন চালু করলেও নানা কারণে এখনও তা তেমন
জনপ্রিয়তা পায়নি। অনলাইন লেনদেন জনপ্রিয় করতে সম্প্রতি সিএসই সিলেটে একটি রোড শোও করেছে এবং দেশের অন্যান্য
এলাকায়ও রোড শো করবে। বর্তমানে সিএসইতে ২২টি সদস্য প্রতিষ্ঠান অনলাইন লেনদেন সুবিধা
দিচ্ছে বলে জানা গেছে। ডিএসইর সদ্য বিদায়ী সভাপতি
মোঃ রকিবুর রহমানের মেয়াদে অনলাইন লেনদেন চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ইতোমধ্যে এর প্রাথমিক
অবকাঠামোর কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে সফটওয়্যার
উন্নয়নের কাজ। ডিসেম্বরের মধ্যে ডিএসই অবশ্যই অনলাইন লেনদেন চালু করতে সক্ষম হবে বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, একটি গতিশীল ও বিকাশমান
বাজারের জন্য অনলাইন লেনদেন একান্ত অপরিহার্য। ডিএসইর তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের প্রধান খায়রুজ্জামান
বলেন, কার্যক্রম যেভাবে এগোচ্ছে,
এতে ১৫
ডিসেম্বরের মধ্যেই অনলাইন লেনদেন শুরু করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, এ সুবিধা চালু হলে বিশ্বের যে কোনো প্রান্ত থেকে শুধু কম্পিউটারের মাউস ক্লিকের মাধ্যমে ইন্টারনেটে
যে কেউ মুহূর্তের মধ্যে শেয়ার কেনাবেচা করতে
পারবেন।
শেয়ারবাজার
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অনলাইন লেনদেন সুবিধা দেশের শেয়ারবাজারে নতুন মাত্রা
যোগ করবে।
ফলে
দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে
শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করা সম্ভব হবে এবং বিশ্বের যে কোনো প্রান্ত থেকেও লেনদেনে অংশ নেওয়া যাবে। এ সুবিধা চালু হলে
প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশের
শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের প্রতি অনেক আগ্রহী হবেন এবং বিপুল পরিমাণ বিদেশি বিনিয়োগ আসবে বলে মনে
করেন তারা। তবে ওই সুবিধা চালুর
আগেই
বাজারে ভালো শেয়ারের পর্যাপ্ত সরবরাহ বাড়ানো জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ অনলাইন লেনদেন চালু হলে হঠাৎ করে
শেয়ারের চাহিদা অনেক বেড়ে যাবে। তখন বাজারে পর্যাপ্ত
শেয়ার না থাকলে দাম অস্বাভাবিক বেড়ে গিয়ে ভারসাম্যহীন
হয়ে উঠতে পারে বাজার।Source: ঢাকানিউজ 24 ডটকম

0 comments:
Post a Comment