Custom Search

Sunday, September 26, 2010

ডেডলাইন ৩০ সেপ্টেম্বর পুঁজিবাজারে চার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন

আমার দেশ
কাগুজে শেয়ার রয়েছে এ ধরনের আর কোনো কোম্পানির শেয়ার আগামী ১ অক্টোবর থেকে স্টক এক্সচেঞ্জের মেইন বোর্ডে লেনদেন হবে না। ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কাগুজে শেয়ারের কোম্পানিগুলোকে তাদের শেয়ার ইলেকট্রনিক বা ডিমেটে রূপান্তর করতে ব্যর্থ হলে এসব কোম্পানির শেয়ার স্টক এক্সচেঞ্জের মেইন বোর্ডে লেনদেন হবে না। শুধু এটিই নয়, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আরও বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। নতুন করে সময় বাড়ানো না হলে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই সেসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে হবে সংশ্লিষ্টদের। সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে—মার্জিন লোনের ক্ষেত্রে এনএভি হিসাব পদ্ধতিতে যেসব মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউস তাদের গ্রাহকদের অতিরিক্ত ঋণ বিতরণ করেছে তা সমন্বয় করতে হবে, মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউস যদি কোনো একক গ্রাহককে ১০ কোটি টাকার অতিরিক্ত ঋণ দিয়ে থাকে তাও সমন্বয় করতে হবে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। এছাড়া বর্ধিত ফি জমা দিয়ে বিও একাউন্ট নবায়নের সময়সীমাও শেষ হতে যাচ্ছে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর। যে সব বিও একাউন্টধারী এ সময়সীমার মধ্যে তাদের একাউন্ট নবায়ন করবে না তাদের একাউন্ট বাতিল হয়ে যাবে। পুঁজিবাজারের এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ৩০ সেপ্টেম্বরের এ সময়সীমা বেঁধে দেয়ায় এ তারিখকে পুঁজিবাজারের ডেড লাইন বলা যেতে পারে অনায়াসে।
এনএভি ভিত্তিতে অতিরিক্ত ঋণ সমন্বয় : এনএভি ও বাজার মূল্যের গড় মূল্যের ভিত্তিতে মার্জিন লোন বিতরণে ২০০৭ সালে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মার্চেন্ট ব্যাংক ও পোর্ট পোলিও ম্যানেজার) বিধিমালা-১৯৯৬-এ একটি সংযোজনী প্রজ্ঞাপন জারি করে কমিশন। কিন্তু গত তিন বছরেও এটি কার্যকর করা হয়নি। এ নিয়ে এসইসিও এতদিন কোনো উচ্চবাচ্য করেনি। কিন্তু সম্প্রতি বাজারে ঝুঁকির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষিতে এসইসি গত ২৪ আগস্ট মার্জিন লোনের ক্ষেত্রে ২০০৭ সালের নির্দেশনা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয় এবং সে অনুযায়ী অতিরিক্ত ঋণ সমন্বয়ে ৩০ সেপ্টেম্বরের সময়সীমা দেয়। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে মার্চেন্ট ব্যাংক এবং স্টক এক্সচেঞ্জের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দু’দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে এসইসির কঠোর অবস্থানের কারণে তা মেনে নিতে বাধ্য হয় মার্চেন্ট ব্যাংক এসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা। যদিও পদ্ধতিগত জটিলতা এবং প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার না থাকার কারণে তা বাস্তবায়ন কঠিন বলে তারা মত দেয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় যে, প্রতি সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে কোম্পানির এনএভি তালিকা প্রকাশ করবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ। প্রকাশিত তালিকার ভিত্তিতে মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউস গ্রাহকদের ঋণ বিতরণ করবে। এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা এসইসির পক্ষ থেকে জারি করা হলেও এনএভি এবং কোম্পানির বাজার মূল্য হিসাবে কিছু অস্পষ্টতার কারণে ডিএসই সময়মতো তালিকা প্রকাশ করেনি। পরবর্তীতে এসইসি এ সংক্রান্ত একটি গাইডলাইন দিলে গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে সে তালিকা প্রকাশ করে ডিএসই। এখন প্রকাশিত তালিকা ও এনএভির ভিত্তিতে হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী যে সব কোম্পানির শেয়ারের বিপরীতে অতিরিক্ত মার্জিন লোন দেয়া হয়েছে তা আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসগুলোকে সমন্বয় করতে হবে। আর এ সময়ের মধ্যে গ্রাহক তার অতিরিক্ত ঋণ সমন্বয় না করলে মার্জিন কল করবে তারা। অর্থাত্ ফোর্স সেল করে ঋণ সমন্বয় করবে মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউস। তবে অতিরিক্ত ঋণ সমন্বয়ের এ সময়সীমা আরও বাড়ানো প্রয়োজন বলে মার্চেন্ট ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান। তিনি বলেন, মাত্র ৫ দিনের মধ্যে ঋণ সমন্বয় করা সহজ হবে না। আর এটি করতে গেলে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
১০ কোটি টাকার অতিরিক্ত ঋণ সমন্বয় : শেযারবাজারের লাগাম টেনে ধরতে গত ২১ জুলাই কমিশন মার্জিন লোনের ক্ষেত্রে একটি সীমা বেঁধে দেয়। মার্চেন্ট ব্যাংক কোনো ব্যক্তি বা তার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের যৌথনামে সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা এবং ব্রোকারেজ হাউস ৫ কোটি টাকা ঋণ দিতে পারবে। ২২ জুলাই এ সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করে এবং এতে বলা হয়, অতিরিক্ত ঋণ ৩১ আগস্টের মধ্যে সমন্বয় করতে হবে। পরবর্তীতে ব্রোকারেজ হাউসগুলোর জন্য ঋণের সর্বোচ্চ সীমা ১০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয় এবং অতিরিক্ত ঋণ সমন্বয়ের সীমা ৩০ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করে এসইসি। আর এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয় ২৫ জুলাই। সর্বোচ্চ ঋণের এ সীমা সমন্বয়ের সময়ও শেষ হচ্ছে ৩০ সেপ্টেম্বর। তবে এসইসির এ ধরনের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে একটি মার্চেন্ট ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, সাধারণত কোনো নির্দেশনা জারির পর থেকে তা কার্যকর হওয়ার কথা। আগের নিয়ম অনুযায়ী যারা ঋণ নিয়েছে তাদের ঋণ সমন্বয়ে এসইসির আদেশ আইনসম্মত নয়। এতে বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়।
বিও একাউন্ট নবায়ন : বর্ধিত ফি জমা দিয়ে বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) একাউন্ট নবায়নের সময়সীমাও শেষ হচ্ছে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর। এ সময়ের মধ্যে নবায়ন করা না হলে তাদের বিও একাউন্ট বাতিল হয়ে যাবে। আগে বিও একাউন্ট নবায়নে সময় ছিল ৩১ ডিসেম্বর। কিন্তু এবারই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, প্রতি অর্থবছরে বিও একাউন্ট নবায়ন করতে হবে। সে হিসাবে ৩০০ টাকা ফি দিয়ে ৩১ জুলাই ছিল বিও একাউন্ট নবায়নের শেষ সময়। কিন্তু একাউন্ট নবায়নের ফি আরও ২০০ টাকা বাড়ানো হয়। আর বর্ধিত ফি সহকারে একাউন্ট নবায়নের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছিল ৩১ জুলাই পর্যন্ত। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে অনেকেই তাদের একাউন্ট নবায়ন না করায় আরও ২ মাস সময় দিয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর এ সময় বাড়ানো হয়। এ সময়ের মধ্যে ৫০০ টাকা ফি দিয়ে একাউন্ট নবায়ন না করলে তাদের একাউন্ট বাতিল করবে সিডিবিএল। এখানে উল্লেখ্য, যারা ৩০০ টাকা দিয়ে ৩১ জুলাইয়ের আগে একাউন্ট নবায়ন করেছেন তাদের আরও বাড়তি ২০০ টাকা ফি দিতে হবে। তা না হলে তাদের একাউন্টও বাতিল হয়ে যাবে।
ইলেকট্রনিক শেয়ারে রূপান্তর : শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত যে সব কোম্পানির কাগুজে শেয়ার আছে সেসব কোম্পানিকে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাদের শেয়ার ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে রূপান্তর করতে হবে। যে সব কোম্পানি তা করতে ব্যর্থ হবে তাদের স্টক এক্সচেঞ্জের মেইন বোর্ড থেকে তালিকাচ্যুত করে ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি ) মার্কেটে পাঠিয়ে দেয়া হবে। কাগুজে শেয়ার লেনদেনে নানা ধরনের অসুবিধা এবং জটিলতার কারণে এসইসি কঠোর অবস্থান নেয়। ১৯৯৬ সালে শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির অন্যতম ছিল কাগুজে শেয়ার। জাল সার্টিফিকেট তৈরি করে ওই সময় সংঘবদ্ধ চক্র সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। এরপর কোম্পানিগুলোর শেয়ার ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে রূপান্তরে উদ্যোগ নেয়া হয়। গঠিত হয় সিডিবিএল। আর সিডিবিএলের মাধ্যমে ১৯৯৮ সালের আগস্ট মাসে শুরু হয় অটোমেটেড ট্রেডিং সিস্টেম। অটোমেটেড ট্রেডিং চালু হওয়ার পর কোম্পানিগুলো তাদের শেয়ার ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে রূপান্তর শুরু করে। অধিকাংশ কোম্পানি তাদের শেয়ার ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে রূপান্তর করলেও ৪৮টি কোম্পানির শেয়ার কাগুজে থেকে যায়। পুঁজিবাজারকে কাগুজে শেয়ারমুক্ত করতে গত ৩১ মে এসইসি দুটি সিদ্ধান্ত নেয়। এর প্রথমটি হলো—কাগুজে শেয়ারের যেসব কোম্পানি ‘বি’ ক্যাটাগরিতে রয়েছে সেগুলোকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে অবনমন। গত ১ জুলাই এটি কার্যকর করা হয়। আর ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে যেসব কাগুজে শেয়ারের কোম্পানি তাদের শেয়ার ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে রূপান্তর করতে ব্যর্থ হবে সেসব কোম্পানির শেয়ার স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন হবে না। সুতরাং কাগুজে শেয়ার থেকে ইলেকট্রনিক শেয়ারে রূপান্তরে আর মাত্র ৫ দিন সময় বাকি রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২৪টি কোম্পানি তাদের শেয়ার কাগুজে থেকে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে রূপান্তর করেছে। সিডিবিএল সূত্রে জানা যায়, এখন পর্যন্ত ইলেকট্রনিক শেয়ারে রূপান্তর করতে না পারা অপর ২৪ কোম্পানি হলো—আলফা টোব্যাকো, ইউসুফ ফ্লাওয়ার, বাংলাদেশ প্ল্যান্টেশন, হিল প্ল্যান্টেশন, গালফ ফুড, মডার্ন ইন্ডাস্ট্রিজ, নর্দান জুট, কাশেম সিল্ক, মডার্ন ডায়িং, অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, আনলিমা ইয়ার্ন, বাংলা প্রসেস, থেরাপিউটিকস, অরিয়ন ইনফিউশন, আজাদী প্রিন্টার্স, বাংলাদেশ হোটেলস, বাংলাদেশ সার্ভিসেস, নিলয় সিমেন্ট, সমতা লেদার, দি ইঞ্জিনিয়ার ও হিমাদ্রি।

0 comments:

Post a Comment

 
Copyright 2009 BANGLADESH SHARE BAZAR. Powered by Blogger Blogger Templates create by Deluxe Templates. WP by Masterplan