Custom Search

Sunday, September 26, 2010

ডিএসইর সংশোধিত ঋণ তালিকা প্রকাশ১১২ কম্পানি ঋণ পাবে


নিজস্ব প্রতিবেদক,কালের কণ্ঠ
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) বেঁধে দেওয়া এনএভিভিত্তিক ঋণ ব্যবস্থাপনা (মেইনটেন্যান্স মার্জিন রুল) নিয়মের আওতায় ঋণযোগ্য ১১২ কম্পানির তালিকা প্রকাশ করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ।
এসইসির নির্দেশে গত বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ ত্রুটিযুক্ত একটি ঋণযোগ্য সিকিউরিটিজের তালিকা প্রকাশ করে। এ নিয়ে বিপুল সমালোচনা তৈরি হলে শনিবার দিবাগত রাতে সংশোধিত একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়। ডিএসইর ক্রটিযুক্ত প্রথম তালিকায় ১৭ মিউচ্যুয়াল ফান্ডকে ঋণের আওতায় রাখা হলেও সংশোধিত তালিকায় কোনো মিউচ্যুয়াল ফান্ড রাখা হয়নি। যদিও এসইসির ঋণ নিয়ম অনুযায়ী, কোনো মিউচ্যুয়াল ফান্ডের বাজারমূল্য তার এনএভির দেড়গুণের মধ্যে থাকলে ওই ফান্ডের বিপরীতে ১ : ১ হারে ঋণ দেওয়া যাবে। যদি কোনো মিউচ্যুয়াল ফান্ডের এনএভি ১০০ টাকা হয় এবং ওই ফান্ডের বাজারমূল্য ১৫০ টাকার কম হয়, তাহলে সেটি ঋণ পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবে। তা সত্ত্বেও ডিএসইর তালিকায় কোনো মিউচ্যুয়াল ফান্ডের নাম নেই।
জানা গেছে, ঋণদাতা মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসগুলো তাদের নিজস্ব ঋণ ব্যবস্থাপনা নিয়মের আওতায় গড়ে ১০০টির বেশি শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের বিপরীতে ঋণ সুবিধা দিত না। এখন সেখানে তারা চাইলে ১১২টি কম্পানির বিপরীতে ঋণ সুবিধা দিতে পারবে। তবে ঋণযোগ্য কয়টি কম্পানির বিপরীতে বিনিয়োগকারীদের ঋণ সুবিধা দেওয়া হবে, তা ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরই নির্ভর করছে। ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো চাইলে ঋণযোগ্য সব শেয়ারে ঋণ দিতে পারবে। আবার চাইলে সেই সংখ্যা কমাতেও পারে।
এদিকে ডিএসইর তালিকা অনুযায়ী, ৩০ ব্যাংকের মধ্যে ২৬টি, ২১টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৮টি, প্রকৌশল খাতের ২২টির মধ্যে চারটি, খাদ্য খাতের ২৩টির মধ্যে দুটি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ১১টির মধ্যে সাতটি, বস্ত্র খাতের ২৮টির মধ্যে আটটি, ওষুধ খাতের ২১টির মধ্যে আটটি, সেবা ও আবাসন খাতের চারটির মধ্যে একটি, সিমেন্ট খাতের সাতটির মধ্যে চারটি, চামড়া খাতের পাঁচটির মধ্যে তিনটি, সিরামিক খাতের পাঁচটির মধ্যে মাত্র একটি, বীমা খাতের ৪৪টির মধ্যে ২৫টি এবং বিবিধ খাতের ১১টির মধ্যে চারটি কম্পানি ঋণ সুবিধা পাবে।
ডিএসইর তালিকার বাইরে থাকায় আইটি, পাট, ট্রাভেল অ্যান্ড লেজার এবং পেপার ও প্রিন্টিং খাতের তালিকাভুক্ত কোনো কম্পানিই ঋণ সুবিধা পাবে না। এই চারটি খাতে তালিকাভুক্ত ১৩টি কম্পানি রয়েছে। এসইসির ঋণ ব্যবস্থাপনা নিয়ম (মেইনটেন্যান্স মার্জিন রুল) অনুযায়ী ঋণযোগ্য শেয়ারের বিপরীতে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকদের ওই শেয়ারের বাজারমূল্য ও এনএভির যোগফলের অর্ধেকের বেশি ঋণ দিতে পারবে না।
তবে এসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, জেড ক্যাটাগরিভুক্ত প্রতিষ্ঠান, ক্যাটাগরি পরিবর্তন বা নতুন তালিকাভুক্তির পর ৩০ কার্যদিবস অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত এবং যেসব শেয়ারের মূল্য আয়ের অনুপাত (পিই রেশিও) ৪০-এর ওপরে, ওই শেয়ার ঋণ সুবিধার বাইরে থাকবে। এসব শেয়ারের বেলায় এনএভিভিত্তিক ঋণ ব্যবস্থাপনা নিয়ম কার্যকর হবে না।
অপরদিকে এনএভিভিত্তিক নিয়ম পরিপালনের নির্দেশনার আগে যেসব প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগকারীদের বর্ধিত হারে ঋণ দিয়েছে, সেসব ঋণ সমন্বয়ের জন্য এসইসি ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে কোনো বিনিয়োগকারীর ঋণ সমন্বয় করা না হলে ১ অক্টোবর থেকে ওই বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের মাধ্যমে (মার্জিন কল) ঋণ সমন্বয় করতে হবে। তা না হলে অনেক বিনিয়োগকারীর শেয়ার বাধ্যতামূলক বিক্রির আওতায় পড়বে।
শুরু থেকে ঋণদাতা মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো এসইসির নতুন ঋণ নিয়মের বিরোধিতা করে আসছিল। কিন্তু এসইসি এ ব্যাপারে তাদের কঠোর অবস্থানের কথা জানায়।
মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর দাবি, এসইসির এই নিয়ম বাস্তবসম্মত নয়। এমনকি প্রয়োগের দিক থেকেও এটি একটি জটিল প্রক্রিয়া। কারণ এনএভিভিত্তিক কোনো সুনির্দিষ্ট ঋণ তালিকা কারো কাছে নেই।
নতুন এই নিয়মের প্রায়োগিক জটিলতা দূর করতে এসইসি সপ্তাহ শেষে ডিএসইকে এ-সংক্রান্ত একটি তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দেয়। ওই নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার সংশোধিত ঋণ তালিকা প্রকাশ করে ডিএসই।
এসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী আজ রবিবার থেকে এই তালিকা ধরে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ বিতরণ ও ব্যবস্থাপনার কথা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সভাপতি আরিফ খান বলেন, 'এসইসির নতুন এ নিয়ম পরিপালনের নানা অসুবিধার কথা আমরা একাধিকবার নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে জানিয়েছি। কিন্তু তাদের কাছ থেকে সদুত্তর পাইনি। এ অবস্থায় ঋণ সমন্বয় করতে আজ রবিবার থেকে বিনিয়োগকারীদের কাছে অতিরিক্ত মার্জিন কল করা হবে।'
তিনি আরো বলেন, 'এসইসি নতুন এই নিয়ম পালনের ফলে বাস্তবে শেয়ারের বিপরীতে ঋণ সুবিধা কমবে। তাই ঈদের ছুটির আগে থেকেই মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো ঋণসীমা কমিয়ে দিয়েছে। ফলে পরোক্ষভাবে এসইসির নিয়মটিই মেনে চলা হচ্ছে।

0 comments:

Post a Comment

 
Copyright 2009 BANGLADESH SHARE BAZAR. Powered by Blogger Blogger Templates create by Deluxe Templates. WP by Masterplan