Custom Search

Sunday, September 26, 2010

অনলাইনে লেনদেন করতে পারবেন প্রবাসীরাশেয়ারবাজারে বিনিয়োগের আহ্বান এফবিসিআই সভাপতির


 কালের কণ্ঠ,
যুক্তরাষ্ট্রে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী ব্যবসায়ী দলের নেতা এবং ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এফবিসিসিআই) সভাপতি এ কে আজাদ প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশে বলেছেন, প্রবাসীরাই বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশকে পরিচিত করে তুলেছেন। তাঁরা বাংলাদেশের কৃষ্টি-সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বিশ্ববাসীর কাছে পেঁৗছে দিচ্ছেন। বৈদেশিক মুদ্রা পাঠিয়ে তাঁরা দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রেখেছেন। কিন্তু দেশ প্রবাসীদের সেভাবে কিছুই দিতে পারেনি। তবে প্রবাসীদের ব্যাপারে বর্তমান সরকার খুবই শ্রদ্ধাশীল। তাঁদের বিভিন্ন দাবি পূরণে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
শুক্রবার সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের লাগোর্ডিয়া বিমানবন্দরসংলগ্ন হোটেল মেরিয়টের বলরুমে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং নন রেসিডেন্ট বাংলাদেশি-এনআরবি এলএলসির আয়োজনে 'বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের বৃদ্ধি ও সম্ভাবনা' শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন এ কে আজাদ।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সভাপতি শাকিল রিজভীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান পরিচালক রকিবুর রহমান। অন্যান্যের মধ্যে আলোচনা করেন জাহেদ মালেক এমপি, শাহরিয়ার আলম এমপি, এনআরবি নেতা জসিম উদ্দিন, জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।
এফবিসিসিআই সভাপতি এ কে আজাদ বলেন, প্রবাসীরা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে লাভবান হতে পারেন। এটি এখন সম্ভাবনাময় খাত হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, অনেকেই শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করছেন। তবে শেয়ারবাজার সম্পর্কে অনেকেরই সম্যক ধারণা নেই। এ ব্যাপারে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ। তিনি দেশে বিনিয়োগ করতে এফবিসিসিআইকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, অনেকে অভিযোগ করে থাকেন, দেশে বিনিয়োগে অনেক অন্তরায় আছে। এফবিসিসিআই এ ব্যাপারে সবাইকে সহায়তা করতে প্রস্তুত। এ কে আজাদ বলেন, বাংলাদেশ গার্মেন্ট খাত অনেক এগিয়ে গেছে। চীনের বাজার সঙ্কুচিত হয়ে এখন বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছে। এ মুহূর্তে বাংলাদেশে বিনিয়োগকারী প্রয়োজন। তিনি বলেন, দেশে বিনিয়োগকারীদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত এফবিসিসিআই। এজন্য প্রয়োজনে বিমানবন্দর থেকে বিনিয়োগকারীদের সব রকম সহায়তা দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক রকিবুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের শেয়ারবাজারের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরে এসেছে। আমাদের মার্কেট স্থায়ী রূপ নিয়েছে। ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অর্থনীতির মারাত্মক বিপর্যয় ঘটে, তখনো বাংলাদেশের পুঁজিবাজার সচল ছিল। বিগত ১০ বছরে কোনো নেগেটিভ গ্রোথ নেই। এ সবকিছুর অবদানের পেছনে রয়েছে প্রবাসী বাংলাদেশিরা। তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের পুঁজিবাজারে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ প্রবাসীদের জন্য অনলাইনে শেয়ার বেচাকেনার সুযোগ করে দিচ্ছে। প্রবাসে বসেই তাঁরা শেয়ার লেনদেন করতে পারবেন।

ডিএসইর সংশোধিত ঋণ তালিকা প্রকাশ১১২ কম্পানি ঋণ পাবে


নিজস্ব প্রতিবেদক,কালের কণ্ঠ
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) বেঁধে দেওয়া এনএভিভিত্তিক ঋণ ব্যবস্থাপনা (মেইনটেন্যান্স মার্জিন রুল) নিয়মের আওতায় ঋণযোগ্য ১১২ কম্পানির তালিকা প্রকাশ করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ।
এসইসির নির্দেশে গত বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ ত্রুটিযুক্ত একটি ঋণযোগ্য সিকিউরিটিজের তালিকা প্রকাশ করে। এ নিয়ে বিপুল সমালোচনা তৈরি হলে শনিবার দিবাগত রাতে সংশোধিত একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়। ডিএসইর ক্রটিযুক্ত প্রথম তালিকায় ১৭ মিউচ্যুয়াল ফান্ডকে ঋণের আওতায় রাখা হলেও সংশোধিত তালিকায় কোনো মিউচ্যুয়াল ফান্ড রাখা হয়নি। যদিও এসইসির ঋণ নিয়ম অনুযায়ী, কোনো মিউচ্যুয়াল ফান্ডের বাজারমূল্য তার এনএভির দেড়গুণের মধ্যে থাকলে ওই ফান্ডের বিপরীতে ১ : ১ হারে ঋণ দেওয়া যাবে। যদি কোনো মিউচ্যুয়াল ফান্ডের এনএভি ১০০ টাকা হয় এবং ওই ফান্ডের বাজারমূল্য ১৫০ টাকার কম হয়, তাহলে সেটি ঋণ পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবে। তা সত্ত্বেও ডিএসইর তালিকায় কোনো মিউচ্যুয়াল ফান্ডের নাম নেই।
জানা গেছে, ঋণদাতা মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসগুলো তাদের নিজস্ব ঋণ ব্যবস্থাপনা নিয়মের আওতায় গড়ে ১০০টির বেশি শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের বিপরীতে ঋণ সুবিধা দিত না। এখন সেখানে তারা চাইলে ১১২টি কম্পানির বিপরীতে ঋণ সুবিধা দিতে পারবে। তবে ঋণযোগ্য কয়টি কম্পানির বিপরীতে বিনিয়োগকারীদের ঋণ সুবিধা দেওয়া হবে, তা ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরই নির্ভর করছে। ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো চাইলে ঋণযোগ্য সব শেয়ারে ঋণ দিতে পারবে। আবার চাইলে সেই সংখ্যা কমাতেও পারে।
এদিকে ডিএসইর তালিকা অনুযায়ী, ৩০ ব্যাংকের মধ্যে ২৬টি, ২১টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৮টি, প্রকৌশল খাতের ২২টির মধ্যে চারটি, খাদ্য খাতের ২৩টির মধ্যে দুটি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ১১টির মধ্যে সাতটি, বস্ত্র খাতের ২৮টির মধ্যে আটটি, ওষুধ খাতের ২১টির মধ্যে আটটি, সেবা ও আবাসন খাতের চারটির মধ্যে একটি, সিমেন্ট খাতের সাতটির মধ্যে চারটি, চামড়া খাতের পাঁচটির মধ্যে তিনটি, সিরামিক খাতের পাঁচটির মধ্যে মাত্র একটি, বীমা খাতের ৪৪টির মধ্যে ২৫টি এবং বিবিধ খাতের ১১টির মধ্যে চারটি কম্পানি ঋণ সুবিধা পাবে।
ডিএসইর তালিকার বাইরে থাকায় আইটি, পাট, ট্রাভেল অ্যান্ড লেজার এবং পেপার ও প্রিন্টিং খাতের তালিকাভুক্ত কোনো কম্পানিই ঋণ সুবিধা পাবে না। এই চারটি খাতে তালিকাভুক্ত ১৩টি কম্পানি রয়েছে। এসইসির ঋণ ব্যবস্থাপনা নিয়ম (মেইনটেন্যান্স মার্জিন রুল) অনুযায়ী ঋণযোগ্য শেয়ারের বিপরীতে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকদের ওই শেয়ারের বাজারমূল্য ও এনএভির যোগফলের অর্ধেকের বেশি ঋণ দিতে পারবে না।
তবে এসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, জেড ক্যাটাগরিভুক্ত প্রতিষ্ঠান, ক্যাটাগরি পরিবর্তন বা নতুন তালিকাভুক্তির পর ৩০ কার্যদিবস অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত এবং যেসব শেয়ারের মূল্য আয়ের অনুপাত (পিই রেশিও) ৪০-এর ওপরে, ওই শেয়ার ঋণ সুবিধার বাইরে থাকবে। এসব শেয়ারের বেলায় এনএভিভিত্তিক ঋণ ব্যবস্থাপনা নিয়ম কার্যকর হবে না।
অপরদিকে এনএভিভিত্তিক নিয়ম পরিপালনের নির্দেশনার আগে যেসব প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগকারীদের বর্ধিত হারে ঋণ দিয়েছে, সেসব ঋণ সমন্বয়ের জন্য এসইসি ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে কোনো বিনিয়োগকারীর ঋণ সমন্বয় করা না হলে ১ অক্টোবর থেকে ওই বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের মাধ্যমে (মার্জিন কল) ঋণ সমন্বয় করতে হবে। তা না হলে অনেক বিনিয়োগকারীর শেয়ার বাধ্যতামূলক বিক্রির আওতায় পড়বে।
শুরু থেকে ঋণদাতা মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো এসইসির নতুন ঋণ নিয়মের বিরোধিতা করে আসছিল। কিন্তু এসইসি এ ব্যাপারে তাদের কঠোর অবস্থানের কথা জানায়।
মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর দাবি, এসইসির এই নিয়ম বাস্তবসম্মত নয়। এমনকি প্রয়োগের দিক থেকেও এটি একটি জটিল প্রক্রিয়া। কারণ এনএভিভিত্তিক কোনো সুনির্দিষ্ট ঋণ তালিকা কারো কাছে নেই।
নতুন এই নিয়মের প্রায়োগিক জটিলতা দূর করতে এসইসি সপ্তাহ শেষে ডিএসইকে এ-সংক্রান্ত একটি তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দেয়। ওই নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার সংশোধিত ঋণ তালিকা প্রকাশ করে ডিএসই।
এসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী আজ রবিবার থেকে এই তালিকা ধরে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ বিতরণ ও ব্যবস্থাপনার কথা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সভাপতি আরিফ খান বলেন, 'এসইসির নতুন এ নিয়ম পরিপালনের নানা অসুবিধার কথা আমরা একাধিকবার নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে জানিয়েছি। কিন্তু তাদের কাছ থেকে সদুত্তর পাইনি। এ অবস্থায় ঋণ সমন্বয় করতে আজ রবিবার থেকে বিনিয়োগকারীদের কাছে অতিরিক্ত মার্জিন কল করা হবে।'
তিনি আরো বলেন, 'এসইসি নতুন এই নিয়ম পালনের ফলে বাস্তবে শেয়ারের বিপরীতে ঋণ সুবিধা কমবে। তাই ঈদের ছুটির আগে থেকেই মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো ঋণসীমা কমিয়ে দিয়েছে। ফলে পরোক্ষভাবে এসইসির নিয়মটিই মেনে চলা হচ্ছে।

প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট ইউনিট ফান্ডের চাঁদা গ্রহণ শুরু আজ

অর্থনৈতিক রিপোর্টার,আমার দেশ
বেসরকারি খাতের প্রথম অ-মেয়াদি (ওপেন এন্ড) মিউচুয়াল ফান্ড প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট ইউনিট ফান্ডের চাঁদা গ্রহণ শুরু হচ্ছে আজ। রাজধানীর হোটেল শেরাটনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ চাঁদা গ্রহণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হবে। বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে এ চাঁদা গ্রহণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে এ ফান্ডটির আকার হচ্ছে ২০ কোটি টাকা এবং ফান্ডের প্রতিটি ইউনিটের অভিহিত মূল্য ১০০ টাকা। ফলে ফান্ডটির ইউনিটের সংখ্যা হচ্ছে ২০ লাখ। এর মধ্যে উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান প্রাইম ফাইন্যান্স এন্ড ইনভেস্টমেন্ট ৩ কোটি টাকা দিয়ে ৩ লাখ ইউনিট ক্রয় করেছে। বাকি ১৭ লাখ ইউনিট বিক্রি করা হবে। এর মধ্যে এসব ইউনিট বিক্রি করতে ১৬টি মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসকে বিক্রয় প্রতিনিধি হিসাবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এসব প্রতিনিধির মাধ্যমে আগে আসলে আগে পাবেন ভিত্তিতে আগ্রহীদের কাছে ফান্ডের ইউনিট বিক্রয় করা হবে। তবে একজন আগ্রহীকে নূন্যতম ৫০টি ইউনিট ক্রয় করতে হবে। একজন গ্রাহক যে কটি ইউনিট ক্রয় করবে তার বিপরীতে একটি সার্টিফিকেট ইস্যু করা হবে। ইউনিট ফান্ডটি শেয়ারবাজারে অন্যান্য মেয়াদি ফান্ডের মতো শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হবে না। ফলে শেয়ারবাজারে এটি লেনদেন হবে না। তবে একজন ইউনিট গ্রাহক প্রয়োজন বোধে তা বিক্রি করতে পারবেন। তবে এটি অন্য কোনো গ্রাহকের কাছে (ফরোয়ার্ড সেল) বিক্রি করা যাবে না। ফান্ডটির সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান কিংবা মনোনীত প্রতিনিধির কাছে বিক্রি করা যাবে। আবার কিনতে চাইলেও তাদের কাছ থেকেই কিনতে হবে। আর এক্ষেত্রে ফান্ডের ইউনিটের মূল্য হবে তার এনএভির (+/- ১৫ শতাংশ) বেশি হবে না। তবে শর্ত থাকে যে, এনএভি এবং বাজারমূল্যের পার্থক্য ৫ টাকার বেশি হতে পারবে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওপেন এন্ড ইউনিট ফান্ড এসইসির বিধিমালা অনুসরণ করে শেয়ারবাজারে বিভিন্ন তালিকাভুক্ত কোম্পানি, আইপিও, বন্ড ও বিভিন্ন ফান্ডে বিনিয়োগ করতে পারবে। এসব বিনিয়োগের মাধ্যমে যে মুনাফা হবে বছর শেষে তার ন্যূনতম ৭০ শতাংশ ইউনিট হোল্ডারদের বিতরণ করতে হবে। প্রাথমিকভাবে ফান্ডটির আকার ২০ কোটি টাকা হলেও ভবিষ্যতে এসইসির অনুমোদন সাপেক্ষে তা যে কোনো আকারের হতে পারে।
ফান্ডটির সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান প্রাইম ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মঈন আল কাশেম বলেন, যারা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে ঝুঁকি নিতে চান না ইউনিট ফান্ডে বিনিয়োগের জন্য তাদের একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে আমরাই প্রথম বেসরকারি খাতে ওপেন এন্ড ইউনিট ফান্ড বাজারে নিয়ে এসেছি। সেজন্য প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বাইরে সাধারণ বিনিয়োগকারী, প্রবাসী বাংলাদেশীদের কাছে তা পরিচিত করতে আনুষ্ঠানিক আয়োজন করা হয়েছে। আমরা চাই এ ধরনের ফান্ডের ব্যাপারে সাধারণ মানুষ আগ্রহী হয়ে উঠুক। তাহলে ভবিষ্যতে এ ধরনের আরো ফান্ড আসার সুযোগ তৈরি হবে। এখানে উল্লেখ্য, দেশে প্রথম ওপেন এন্ড মিউচুয়াল ফান্ড বাজারে নিয়ে আসে আইসিবি।

ডেডলাইন ৩০ সেপ্টেম্বর পুঁজিবাজারে চার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন

আমার দেশ
কাগুজে শেয়ার রয়েছে এ ধরনের আর কোনো কোম্পানির শেয়ার আগামী ১ অক্টোবর থেকে স্টক এক্সচেঞ্জের মেইন বোর্ডে লেনদেন হবে না। ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কাগুজে শেয়ারের কোম্পানিগুলোকে তাদের শেয়ার ইলেকট্রনিক বা ডিমেটে রূপান্তর করতে ব্যর্থ হলে এসব কোম্পানির শেয়ার স্টক এক্সচেঞ্জের মেইন বোর্ডে লেনদেন হবে না। শুধু এটিই নয়, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আরও বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। নতুন করে সময় বাড়ানো না হলে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই সেসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে হবে সংশ্লিষ্টদের। সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে—মার্জিন লোনের ক্ষেত্রে এনএভি হিসাব পদ্ধতিতে যেসব মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউস তাদের গ্রাহকদের অতিরিক্ত ঋণ বিতরণ করেছে তা সমন্বয় করতে হবে, মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউস যদি কোনো একক গ্রাহককে ১০ কোটি টাকার অতিরিক্ত ঋণ দিয়ে থাকে তাও সমন্বয় করতে হবে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। এছাড়া বর্ধিত ফি জমা দিয়ে বিও একাউন্ট নবায়নের সময়সীমাও শেষ হতে যাচ্ছে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর। যে সব বিও একাউন্টধারী এ সময়সীমার মধ্যে তাদের একাউন্ট নবায়ন করবে না তাদের একাউন্ট বাতিল হয়ে যাবে। পুঁজিবাজারের এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ৩০ সেপ্টেম্বরের এ সময়সীমা বেঁধে দেয়ায় এ তারিখকে পুঁজিবাজারের ডেড লাইন বলা যেতে পারে অনায়াসে।
এনএভি ভিত্তিতে অতিরিক্ত ঋণ সমন্বয় : এনএভি ও বাজার মূল্যের গড় মূল্যের ভিত্তিতে মার্জিন লোন বিতরণে ২০০৭ সালে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মার্চেন্ট ব্যাংক ও পোর্ট পোলিও ম্যানেজার) বিধিমালা-১৯৯৬-এ একটি সংযোজনী প্রজ্ঞাপন জারি করে কমিশন। কিন্তু গত তিন বছরেও এটি কার্যকর করা হয়নি। এ নিয়ে এসইসিও এতদিন কোনো উচ্চবাচ্য করেনি। কিন্তু সম্প্রতি বাজারে ঝুঁকির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষিতে এসইসি গত ২৪ আগস্ট মার্জিন লোনের ক্ষেত্রে ২০০৭ সালের নির্দেশনা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয় এবং সে অনুযায়ী অতিরিক্ত ঋণ সমন্বয়ে ৩০ সেপ্টেম্বরের সময়সীমা দেয়। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে মার্চেন্ট ব্যাংক এবং স্টক এক্সচেঞ্জের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দু’দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে এসইসির কঠোর অবস্থানের কারণে তা মেনে নিতে বাধ্য হয় মার্চেন্ট ব্যাংক এসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা। যদিও পদ্ধতিগত জটিলতা এবং প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার না থাকার কারণে তা বাস্তবায়ন কঠিন বলে তারা মত দেয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় যে, প্রতি সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে কোম্পানির এনএভি তালিকা প্রকাশ করবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ। প্রকাশিত তালিকার ভিত্তিতে মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউস গ্রাহকদের ঋণ বিতরণ করবে। এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা এসইসির পক্ষ থেকে জারি করা হলেও এনএভি এবং কোম্পানির বাজার মূল্য হিসাবে কিছু অস্পষ্টতার কারণে ডিএসই সময়মতো তালিকা প্রকাশ করেনি। পরবর্তীতে এসইসি এ সংক্রান্ত একটি গাইডলাইন দিলে গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে সে তালিকা প্রকাশ করে ডিএসই। এখন প্রকাশিত তালিকা ও এনএভির ভিত্তিতে হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী যে সব কোম্পানির শেয়ারের বিপরীতে অতিরিক্ত মার্জিন লোন দেয়া হয়েছে তা আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসগুলোকে সমন্বয় করতে হবে। আর এ সময়ের মধ্যে গ্রাহক তার অতিরিক্ত ঋণ সমন্বয় না করলে মার্জিন কল করবে তারা। অর্থাত্ ফোর্স সেল করে ঋণ সমন্বয় করবে মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউস। তবে অতিরিক্ত ঋণ সমন্বয়ের এ সময়সীমা আরও বাড়ানো প্রয়োজন বলে মার্চেন্ট ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান। তিনি বলেন, মাত্র ৫ দিনের মধ্যে ঋণ সমন্বয় করা সহজ হবে না। আর এটি করতে গেলে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
১০ কোটি টাকার অতিরিক্ত ঋণ সমন্বয় : শেযারবাজারের লাগাম টেনে ধরতে গত ২১ জুলাই কমিশন মার্জিন লোনের ক্ষেত্রে একটি সীমা বেঁধে দেয়। মার্চেন্ট ব্যাংক কোনো ব্যক্তি বা তার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের যৌথনামে সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা এবং ব্রোকারেজ হাউস ৫ কোটি টাকা ঋণ দিতে পারবে। ২২ জুলাই এ সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করে এবং এতে বলা হয়, অতিরিক্ত ঋণ ৩১ আগস্টের মধ্যে সমন্বয় করতে হবে। পরবর্তীতে ব্রোকারেজ হাউসগুলোর জন্য ঋণের সর্বোচ্চ সীমা ১০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয় এবং অতিরিক্ত ঋণ সমন্বয়ের সীমা ৩০ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করে এসইসি। আর এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয় ২৫ জুলাই। সর্বোচ্চ ঋণের এ সীমা সমন্বয়ের সময়ও শেষ হচ্ছে ৩০ সেপ্টেম্বর। তবে এসইসির এ ধরনের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে একটি মার্চেন্ট ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, সাধারণত কোনো নির্দেশনা জারির পর থেকে তা কার্যকর হওয়ার কথা। আগের নিয়ম অনুযায়ী যারা ঋণ নিয়েছে তাদের ঋণ সমন্বয়ে এসইসির আদেশ আইনসম্মত নয়। এতে বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়।
বিও একাউন্ট নবায়ন : বর্ধিত ফি জমা দিয়ে বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) একাউন্ট নবায়নের সময়সীমাও শেষ হচ্ছে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর। এ সময়ের মধ্যে নবায়ন করা না হলে তাদের বিও একাউন্ট বাতিল হয়ে যাবে। আগে বিও একাউন্ট নবায়নে সময় ছিল ৩১ ডিসেম্বর। কিন্তু এবারই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, প্রতি অর্থবছরে বিও একাউন্ট নবায়ন করতে হবে। সে হিসাবে ৩০০ টাকা ফি দিয়ে ৩১ জুলাই ছিল বিও একাউন্ট নবায়নের শেষ সময়। কিন্তু একাউন্ট নবায়নের ফি আরও ২০০ টাকা বাড়ানো হয়। আর বর্ধিত ফি সহকারে একাউন্ট নবায়নের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছিল ৩১ জুলাই পর্যন্ত। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে অনেকেই তাদের একাউন্ট নবায়ন না করায় আরও ২ মাস সময় দিয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর এ সময় বাড়ানো হয়। এ সময়ের মধ্যে ৫০০ টাকা ফি দিয়ে একাউন্ট নবায়ন না করলে তাদের একাউন্ট বাতিল করবে সিডিবিএল। এখানে উল্লেখ্য, যারা ৩০০ টাকা দিয়ে ৩১ জুলাইয়ের আগে একাউন্ট নবায়ন করেছেন তাদের আরও বাড়তি ২০০ টাকা ফি দিতে হবে। তা না হলে তাদের একাউন্টও বাতিল হয়ে যাবে।
ইলেকট্রনিক শেয়ারে রূপান্তর : শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত যে সব কোম্পানির কাগুজে শেয়ার আছে সেসব কোম্পানিকে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাদের শেয়ার ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে রূপান্তর করতে হবে। যে সব কোম্পানি তা করতে ব্যর্থ হবে তাদের স্টক এক্সচেঞ্জের মেইন বোর্ড থেকে তালিকাচ্যুত করে ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি ) মার্কেটে পাঠিয়ে দেয়া হবে। কাগুজে শেয়ার লেনদেনে নানা ধরনের অসুবিধা এবং জটিলতার কারণে এসইসি কঠোর অবস্থান নেয়। ১৯৯৬ সালে শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির অন্যতম ছিল কাগুজে শেয়ার। জাল সার্টিফিকেট তৈরি করে ওই সময় সংঘবদ্ধ চক্র সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। এরপর কোম্পানিগুলোর শেয়ার ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে রূপান্তরে উদ্যোগ নেয়া হয়। গঠিত হয় সিডিবিএল। আর সিডিবিএলের মাধ্যমে ১৯৯৮ সালের আগস্ট মাসে শুরু হয় অটোমেটেড ট্রেডিং সিস্টেম। অটোমেটেড ট্রেডিং চালু হওয়ার পর কোম্পানিগুলো তাদের শেয়ার ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে রূপান্তর শুরু করে। অধিকাংশ কোম্পানি তাদের শেয়ার ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে রূপান্তর করলেও ৪৮টি কোম্পানির শেয়ার কাগুজে থেকে যায়। পুঁজিবাজারকে কাগুজে শেয়ারমুক্ত করতে গত ৩১ মে এসইসি দুটি সিদ্ধান্ত নেয়। এর প্রথমটি হলো—কাগুজে শেয়ারের যেসব কোম্পানি ‘বি’ ক্যাটাগরিতে রয়েছে সেগুলোকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে অবনমন। গত ১ জুলাই এটি কার্যকর করা হয়। আর ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে যেসব কাগুজে শেয়ারের কোম্পানি তাদের শেয়ার ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে রূপান্তর করতে ব্যর্থ হবে সেসব কোম্পানির শেয়ার স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন হবে না। সুতরাং কাগুজে শেয়ার থেকে ইলেকট্রনিক শেয়ারে রূপান্তরে আর মাত্র ৫ দিন সময় বাকি রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২৪টি কোম্পানি তাদের শেয়ার কাগুজে থেকে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে রূপান্তর করেছে। সিডিবিএল সূত্রে জানা যায়, এখন পর্যন্ত ইলেকট্রনিক শেয়ারে রূপান্তর করতে না পারা অপর ২৪ কোম্পানি হলো—আলফা টোব্যাকো, ইউসুফ ফ্লাওয়ার, বাংলাদেশ প্ল্যান্টেশন, হিল প্ল্যান্টেশন, গালফ ফুড, মডার্ন ইন্ডাস্ট্রিজ, নর্দান জুট, কাশেম সিল্ক, মডার্ন ডায়িং, অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, আনলিমা ইয়ার্ন, বাংলা প্রসেস, থেরাপিউটিকস, অরিয়ন ইনফিউশন, আজাদী প্রিন্টার্স, বাংলাদেশ হোটেলস, বাংলাদেশ সার্ভিসেস, নিলয় সিমেন্ট, সমতা লেদার, দি ইঞ্জিনিয়ার ও হিমাদ্রি।
 
Copyright 2009 BANGLADESH SHARE BAZAR. Powered by Blogger Blogger Templates create by Deluxe Templates. WP by Masterplan