Custom Search

Monday, January 25, 2010

মিউচুয়াল ফান্ড মামলার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে না এসইসি

তথ্য সূত্র : দৈনিক আমার দেশ



মিউচুয়াল ফান্ড সংক্রান্ত মামলার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। এসইসির এ সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘদিন ধরে মিউচুয়াল ফান্ড সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তি হলো। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল না করার ফলে মিউচুয়াল ফান্ডগুলো এখন থেকে বোনাস এবং রাইট শেয়ার ইস্যু করতে পারবে। অবশ্য এ ধরনের শেয়ার ইস্যুর ক্ষেত্রে এসইসির অনুমোদনের প্রয়োজন হবে।
প্রসঙ্গত মামলার কারণে গত দু'বছর ধরে মিউচুয়াল ফান্ডগুলো তাদের শেয়ার হোল্ডারদের কোনো ধরনের ডিভিডেন্ড দিতে পারছিল না। এর ফলে এ খাতে বিনিয়োগকারীরা আর্থিক ক্ষতির শিকার হন। এখন মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর শেয়ার হোল্ডারদের ডিভিডেন্ড দেয়ার ক্ষেত্রে আর কোনো বাধা নেই বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
এদিকে মেয়াদি (ক্লোজেন্ড) মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মেয়াদ ১০ বছরের বেশি হতে পারবে না। একই সঙ্গে যেসব মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের মেয়াদ ইতিমধ্যে ১০ বছর বা তারও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে, সেসব মিউচুয়াল ফান্ড ২০১১ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে অবলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল এসইসি। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য আজ আদেশ জারি করেছে এসইসি। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকরের জন্য পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে ইতোমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে তারা।
গতকাল এসইসি কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসইসি সদস্য এম এম মনসুর আলম বলেন, রায়ের কপি পাওয়ার পরই এসইসি ব্যাপক পর্যালোচনা করে। পর্যালোচনা শেষে বিনিয়োগকারীসহ পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সবার স্বার্থ বিবেচনা করে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে এসইসি। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন এসইসির নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারুল কবির ভূঁইয়া।
গত ৮ নভেম্বর মিউচুয়াল ফান্ড এসইসির অনুমোদন সাপেক্ষে রাইট ও বোনাস শেয়ার দিতে পারবে এই মর্মে রায় দেন হাইকোর্ট। এসইসি ওই রায় কার্যকর করার বদলে রায়ের কপি না পাওয়া পর্যন্ত রায়ের কার্যকারিতা স্থগিতের জন্য আদালতে আবেদন জানায়। এর ফলে পুঁজিবাজারে মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর ব্যাপক দরপতন ঘটে। গত সপ্তাহে প্রায় তিন মাস শেষে রায়ের সার্টিফাইড কপি এসইসির হাতে এসে পৌঁছে।
উল্লেখ্য, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) ২০০৮ সালের ২২ জুলাই সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মিউচুয়াল ফান্ড) বিধিমালা-২০০১ এর কিছু ধারা সংশোধন করে। এ সংশোধনীতে মিউচুয়াল ফান্ডের বোনাস লভ্যাংশ ও রাইট শেয়ার ইস্যু নিষিদ্ধ করা হয়। মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর লভ্যাংশ ঘোষণার ঠিক কিছুদিন আগে তড়িঘড়ি করে নেয়া এসইসির সিদ্ধান্ত নানা বিতর্ক ও ক্ষোভের জন্ম দেয়। এসইসির সিদ্ধান্তের পরদিন থেকেই বাজারে মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর ব্যাপক মূল্যপতন শুরু হয়। দু'সপ্তাহের মধ্যে কোনো কোনো মিউচুয়াল ফান্ডের বাজারমূল্য প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে। ওই বছরের ৪ আগস্ট ইব্রাহীম আকন্দ, দেলোয়ার হোসেন এবং রায়হানা হক নামের তিন বিনিয়োগকারী এসইসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত পরবর্তী তিন মাসের জন্য মিউচুয়াল ফান্ডের লভ্যাংশ ঘোষণার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এরপর কয়েক দফায় নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ানো হয়।
আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে মিউচুয়াল ফান্ডগুলো জুন, ২০০৮ সালে সমাপ্ত বছরের জন্য কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারেনি। রিট আবেদনের কয়েকদিন আগে আইসিবি পরিচালিত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর লভ্যাংশ ঘোষণা করা হলেও আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে তাও বিতরণ করা যায়নি।
বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে মিউচুয়াল ফান্ড সংক্রান্ত মামলাটির দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে এসইসি এবং ডিএসই গত কয়েক মাসে নানামুখী উদ্যোগ নেয়। এসইসি এবং ডিএসইর একটি যৌথ প্রতিনিধি দল গত মাসে আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাত্ করে মামলাটির দ্রুত নিষ্পত্তিতে উদ্যোগ নেয়ার অনুরোধ জানায়।
গত বছরের ৫ আগস্ট মামলার শুনানি শুরু হয়। দীর্ঘ শুনানি শেষে ৮ নভেম্বর এসইসির সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করে রায় ঘোষণা করে আদালত। আদালতের এ রায়ের বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদন করে এসইসি। রায়ের কপি হাতে না পাওয়ায় স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ানো হয়। কিন্তু রায়ের বিরুদ্ধে এসইসি আপিল করবে—এ ধরনের প্রচারণায় বাজারে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল না করার জন্য বিক্ষোভ সমাবেশের ঘটনাও ঘটে। অবশেষে গতকাল এসইসি রায়ের বিরুদ্ধে আপিল না করারই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা মামলার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল না করার এসইসির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।
 
Copyright 2009 BANGLADESH SHARE BAZAR. Powered by Blogger Blogger Templates create by Deluxe Templates. WP by Masterplan